বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ ডেস্ক >> সাম্প্রতিক সময়ে পাথরঘাটা, বরগুনা ও পটুয়াখালী সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার দক্ষিণে দূরবর্তী বঙ্গোপসাগরের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি দস্যুতার ঘটনায় র্যাবে অভিযান। গোপন সূত্রে র্যাবে জানতে পারেন, এইসব এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারে হামলা করে জেলেদের অপহরণ, লুণ্ঠন ও মুক্তিপণ দাবী করেছে দস্যুরা । এছাড়া দস্যুদের গুলিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় একজনের নিহতের ঘটনা ঘটে বলে জানতে পারেন র্যাবে ।
র্যাব জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝিতে পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনা হতে জেলেরা মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে গমণ করিলে পাথরঘাটা, বরগুনা ও পটুয়াখালী (বলেশ্বর ও পায়রা মোহনা) বঙ্গোপসাগরের তৎসংলগ্ন অভ্যন্তরে অপহরণের স্বীকার হয়। জেলেরা স্ব স্ব নৌকা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান থেকে একটির পর একটি নৌকায় ডাকাতি করে। অতঃপর জলদস্যুরা ভিকটিমদের সহকর্মীদের মুক্তিপণের অর্থ জানিয়ে দিয়ে ভিকটিমদের নৌকাযোগে ফেরত পাঠায়। কিন্তু দস্যুরা ভিকটিমদের একটি নৌকা রেখে দেয়, যা ডাকাতির কাজে ব্যবহার করে। এছাড়া ভিকটিমদের নিকট হতে লুন্ঠনকৃত মাছ, জাল এবং তৈল ডাকাতদের নৌকার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়। মোবাইলসহ মূল মাঝি ও কয়েকজন সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অতঃপর ভিকটিদের মোবাইল নম্বর হতে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ দিতে চাপ প্রয়োগ করে জলদস্যুরা।
এমন সংবাদরে সূত্রধরে চতুর্মূখী অভিযানের উদ্যোগ নেয় র্যাব। র্যাব আভিযানিক ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। র্যাব-৮ এর আভিযানিক দল বঙ্গোপসাগরের অভ্যন্তরে ও সমুদ্রের নিকটবর্তী চরাঞ্চল যেমন; ডাল চর, সোনার চর, চর মন্তাজসহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়াও হেলিকপ্টারযোগে টহল পরিচালনা করে র্যাব। একপর্যায়ে র্যাবের গতিবিধি ও তৎপরতা আঁচ করতে পেরে দস্যুরা গত ২৩ নভেম্বর অপহৃতদের নৌকায় রেখে চলে যায়।
র্যাবের অভিযান সংক্রান্ত বিষয়ে ইতোমধ্যে পাথরঘাটা থানায় ০২টি মামলা রুজ্জু হয়। মামলা নং ১৬/ ২০২১। ধারা ৩৯৫/৩৯৭/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬ পেনাল কোড।
র্যাব জানান, অপহৃতদের ছেড়ে দেওয়ার পরেও আমাদের জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা বলেন,
মোবাইল ব্যাংকিং ট্রান্সফারের মাধ্যমে মুক্তিপণের অর্থ প্রবাহের উপর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে। তারা আরোও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা শাখার অভিযানে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা হতে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমায় জেলেদের নৌকায় ডাকাতির মূল মুক্তিপণ সংগ্রাহক মোঃ ইলিয়াস হোসেন মৃধা (২৮), পিতাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, গলাচিপা, পটুয়াখালী’কে মুক্তিপণের অর্থসহ গ্রেফতার করেন আমাদের টিম। উদ্ধার করা হয় মুক্তিপণের পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইলিয়াস বর্ণিত ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জলদস্যুদের সম্পর্কে তথ্য দেয়। ফলশ্রুতিতে আমরা তথ্য যাচাই বাছাই ও গোয়েন্দা অনুসন্ধান বৃদ্ধি করব।
র্যাব বলেন, সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা -৮ এর আভিযানে গত ০৩ ডিসেম¦র রাতে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা এলাকা হতে উক্ত জলদস্যু দলের মূল সমন্বয়কারী (১) মোঃ খলিল জমাদ্দার (৫০), পিতাঃ মৃত কদম আলী জমাদ্দার, তালতলী, বরগুনা (২) মোঃ মাহাতাব পেদা (৩৩), পিতাঃ মৃত জালাল পেদা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৩) মোঃ জামাল আকন্দ (৩৬), পিতাঃ আব্দুল জলিল আকন্দ, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৪) মোঃ মাছুম, মানছুর খলিফা (৪৬), পিতাঃ নওয়াব আলী খলিফা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী (৫) মোঃ মিনাজ খাঁ, পিতাঃ সিদ্দিক খাঁ, গলাচিপা থেকে গ্রেফতার অভিযানে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ডাকাত দলের কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উক্ত অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ থানায় মামলা রুজু করে গ্রেফতারকৃতদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে, জেলে, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বরগুনা জেলার পাথর ঘাটা উপজেলায় অঞ্চলের উপকুলীয় জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায় আইন শৃংখলা বিষয়ক একটি বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উক্ত সভায় মত প্রকাশ করে বলেন “এই উপক‚লীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জকে মাথায় রেখে ইতেমধ্যে র্যাব ফোর্সেস ত্রিমাত্রিক টহলের ব্যবস্থা করেছে। ভবিষ্যতে সাগরে যাতে কেউ কোন প্রকার অস্থিরতা তৈরী করতে না পারে সে ব্যাপারে র্যাব অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এ ব্যাপারে র্যাব ফোর্সেস কোন ব্যক্তি/বাহিনী কাউকে একচুলও ছাড় দিবেনা। আপনারা জানেন গত মাসে সাগরে এই অঞ্চলে একটি খুনসহ অপহরনের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি র্যাব তাৎক্ষনিকভাবে আমলে নিয়ে দ্রততম সময়ের ভিতরে এই চক্রটিকে সনাক্ত করে এবং ১০ জন জলদস্যুকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে আপনাদেরকে আরও জানাতে চাই, এই চক্রের বাহিরেও অন্য কোন গ্রæপ যদি জড়িত থাকে তাদেরকেও যথাযথ আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। জেলে ভাইদের আশ্বস্ত করতে চাই আপনারা নির্ভয়ে সাগরে যাবেন এবং আপনারা যেকোন সময়ে আমাদের সহযোগীতা পাবেন”।